ছাগলনাইয়ায় পরকীয়ার অভিযোগে ট্রাকচালকের মৃত্যু
ছাগলনাইয়ায় সুমন (৩২) নামে এক ড্রাম ট্রাকচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফারজানা আক্তার (২০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা- এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠানগড় এলাকার তোকাম আলী ফরায়েজি বাড়ি থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত সুমন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। বিয়ের পর থেকে তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুরে শ্বশুরবাড়ির পাশে বসবাস করতেন।আটক ফারজানা আক্তার পাঠানগড় এলাকার কাতারপ্রবাসী সালেহ আহম্মদের স্ত্রী। ফারজানা ও সালেহ আহম্মদ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।নিহতের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের অভিযোগ, পাঠানগড়ের ফারজানা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের জেরে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। স্বামী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন নাসিমা।নাসিমা জানান, গত মঙ্গলবার সকালে স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ তার কথা হয়। এরপর থেকে সুমনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।তবে আটক ফারজানা আক্তার আত্মহত্যার দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সুমন বাথরুমে যান। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে বাথরুমে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এদিকে নিহতের স্বজনরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও ফারজানা আত্মহত্যার কথা বলছেন।ছাগলনাইয়া থানার এসআই কাজী তৌফিকুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাথরুমে গামছা ব্যবহার করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।