আলোকিত গণমাধ্যম

দোস্ত টেক্সটাইলের সাইরেন বাজবে সরব হবে রানীরহাট



দোস্ত টেক্সটাইলের সাইরেন বাজবে  সরব হবে রানীরহাট

দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও সরব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ফেনীর কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানীরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড। বন্ধ থাকা মিলটি পুনরায় চালু অথবা সেখানে নতুন আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি পুনরায় চালু করা অথবা ওই স্থানে নতুন টেকসই টেক্সটাইল কিংবা অন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে নতুন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে কিংবা সেখানে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ফেনীর শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসার প্রত্যাশাও রয়েছে।

১৯৬৫ সালে স্থানীয় বেকার সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফেনী সদর উপজেলার রানীরহাটে ২১ দশমিক ৪৭ একর জমির ওপর ব্যক্তি উদ্যোগে দোস্ত টেক্সটাইল মিলস প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয় এবং এখান থেকে উৎপাদিত সুতা বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে কারখানাটির আধুনিকায়ন না হওয়ায় ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ে। একপর্যায়ে ২০১১ সালে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় একসময় সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের এই প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয় নীরব ও জনশূন্য স্থাপনায়। স্থানীয়দের কাছে যা একসময় ‘ভুতুড়ে বাড়ি’ হিসেবেও পরিচিতি পায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শুরুতে কারখানার অবশিষ্ট মেশিনারিজ দরপত্রের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এখন নতুন উদ্যোগে আবারও মিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরোনো মিলটি আধুনিকায়ন করে চালু করা হবে, নাকি সেখানে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে- তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর। তবে দীর্ঘদিনের নীরব রানীরহাটে আবারও শিল্পের সাইরেন বাজবে- এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন স্থানীয়রা।

বিষয় : দোস্ত টেক্সটাইলের সাইরেন বাজবে সরব হবে রানীরহাট

আপনার মতামত লিখুন

আলোকিত গণমাধ্যম

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দোস্ত টেক্সটাইলের সাইরেন বাজবে সরব হবে রানীরহাট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও সরব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ফেনীর কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানীরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড। বন্ধ থাকা মিলটি পুনরায় চালু অথবা সেখানে নতুন আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি পুনরায় চালু করা অথবা ওই স্থানে নতুন টেকসই টেক্সটাইল কিংবা অন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে নতুন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে কিংবা সেখানে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ফেনীর শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসার প্রত্যাশাও রয়েছে।

১৯৬৫ সালে স্থানীয় বেকার সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফেনী সদর উপজেলার রানীরহাটে ২১ দশমিক ৪৭ একর জমির ওপর ব্যক্তি উদ্যোগে দোস্ত টেক্সটাইল মিলস প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয় এবং এখান থেকে উৎপাদিত সুতা বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে কারখানাটির আধুনিকায়ন না হওয়ায় ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ে। একপর্যায়ে ২০১১ সালে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় একসময় সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের এই প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয় নীরব ও জনশূন্য স্থাপনায়। স্থানীয়দের কাছে যা একসময় ‘ভুতুড়ে বাড়ি’ হিসেবেও পরিচিতি পায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শুরুতে কারখানার অবশিষ্ট মেশিনারিজ দরপত্রের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এখন নতুন উদ্যোগে আবারও মিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরোনো মিলটি আধুনিকায়ন করে চালু করা হবে, নাকি সেখানে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে- তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর। তবে দীর্ঘদিনের নীরব রানীরহাটে আবারও শিল্পের সাইরেন বাজবে- এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন স্থানীয়রা।


আলোকিত গণমাধ্যম

সম্পাদকঃ সিদ্দিক আল-মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দোস্ত টেক্সটাইলের সাইরেন বাজবে সরব হবে রানীরহাট
0:00 0:00
1.0x