ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর বারাহী গোবিন্দ এলাকায় চুরির মহোৎসব চালানো একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। ১৯ আগস্ট বিকেলে একটি বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের সাহসিকতা ও প্রতিরোধে ধরা পড়ে গণধোলাই দিয়ে পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে যান।
আটককৃত চোর চক্রের সদস্যরা হলেন তরদ্দী মোল্লা বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে শাহজাহান, শফিকের ছেলে ফয়সাল এবং বাবুলের ছেলে জহির আহমেদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটির বেপরোয়া চুরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। তাদের অত্যায়ে পুরো এলাকাবাসী সবসময় এক ধরণের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে উত্তর বারাহী গোবিন্দ গ্রামের মনছুর মিয়ার বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে ওই চক্রটি। তাদের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত একত্রিত হয়ে তাদের ঘিরে ফেলেন। পরবর্তীতে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন তারা। এর আগে একই এলাকার আলম মাঝি বাড়ির নুরুল আফছারের ঘরে সুকৌশলে প্রবেশ করে তারা ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু মনছুর মিয়া বা নুরুল আফছারই নন এই চক্রটি পুরো উত্তর বারাহী গোবিন্দ এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকার শেরাজ মিয়ার বাড়ি, মৃত মজু মিয়ার বাড়ি, মনির আহম্মদের ঘর, পণ্ডিত বাড়ির ইয়াছিন এবং রায়হানের ঘরেও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটায় এই চক্রটি। বিশেষ করে ছেরাজ মিয়ার বাড়িতে চুরির সময় অপরাধীরা সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা চালায়। তবে পরবর্তীতে ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই এই অপরাধীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, আটককৃত শাহজাহান, ফয়সাল ও জহিরের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানায় এর আগেও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। বারবার আইনের ফাঁকফোকর গলে বের হয়ে এসে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ত। এলাকার মানুষ তাদের এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও সাহসিকতার কারণে এই চক্রটিকে পাকড়াও করা সম্ভব হলো। এলাকাবাসী এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে চোর আটকের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে তীব্র গতিতে চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং এই চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন