আলোকিত গণমাধ্যম

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২



প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা  দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ  পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দাগনভূঞায় দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য, তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পৌর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিএনপির বিবাদমান দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীরা রয়েছেন বলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আকবর হোসেনের অনুসারীরা স্থানীয় আতাতুর্ক স্কুল মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ফটিক গ্রুপের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় আতাতুর্ক স্কুল মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর পৌর শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে সংঘর্ষের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এদিকে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন, ফখরুল ইসলাম ও শাখাওয়াত হোসেন টিপু আহত হন।

সংঘর্ষের জন্য বিএনপির দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। আকবর হোসেনের অনুসারীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি এবং হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ফটিকের অনুসারীদের দাবি, তারাও হামলার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।

দলটির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হচ্ছে দলের ঐক্য ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণের দিন। এমন একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন না হওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। তারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুনরায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

বিষয় : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২

আপনার মতামত লিখুন

আলোকিত গণমাধ্যম

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দাগনভূঞায় দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য, তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পৌর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিএনপির বিবাদমান দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীরা রয়েছেন বলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে আকবর হোসেনের অনুসারীরা স্থানীয় আতাতুর্ক স্কুল মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ ফটিক গ্রুপের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় আতাতুর্ক স্কুল মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর পৌর শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে সংঘর্ষের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এদিকে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন, ফখরুল ইসলাম ও শাখাওয়াত হোসেন টিপু আহত হন।

সংঘর্ষের জন্য বিএনপির দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। আকবর হোসেনের অনুসারীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি এবং হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ফটিকের অনুসারীদের দাবি, তারাও হামলার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।

দলটির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হচ্ছে দলের ঐক্য ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণের দিন। এমন একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন না হওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। তারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুনরায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 


আলোকিত গণমাধ্যম

সম্পাদকঃ সিদ্দিক আল-মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২
0:00 0:00
1.0x