ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের দেওয়া চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে দুটি পরিবারের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চেতনানাশকের বিষক্রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া দুজনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
গত শুক্রবার (যে রাতে এ ঘটনা ঘটে) দিবাগত রাতে উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারাহী গোবিন্দ গ্রামের ‘ইমরান মেম্বার বাড়ি’তে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন দুজন হলেন খুরশিদ আলম (৬৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪০)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে ইমরান মেম্বার বাড়ির মোহাম্মদ সোহেলের ঘরসহ পাশাপাশি দুটি পরিবারের রাতের খাবারের সাথে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয় চোর চক্র। খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে বা অচেতন হয়ে পড়েন।
পরদিন শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘরগুলোর ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং ঘরের ছোট শিশুদের একটানা কান্নার আওয়াজ শুনতে পান পাশের ঘরের মোহাম্মদ সোহেল। সন্দেহ হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা রয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান পরিবারের সবাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত খুরশিদ আলম ও সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ইমরান মেম্বার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এটি কেবল একটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়। ঘরের নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পাশাপাশি তাকে এবং তার পুরো পরিবারকে স্থায়ীভাবে নিঃশেষ বা হত্যার উদ্দেশ্যেও খাবারে এই উচ্চমাত্রার চেতনানাশক মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বলেন,
চেতনানাশক ব্যবহার করে সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে জোর তদন্ত চলছে।
আপনার মতামত লিখুন